হোম পেজ মারেফত কবরের আসল পরিচয়ঃ কবর কী এবং কবর বলতে কী বুঝায়?

কবরের আসল পরিচয়ঃ কবর কী এবং কবর বলতে কী বুঝায়?

301
0
Baba Jahangir BD

কবরের আসল পরিচয়ঃ
কবর কী এবং কবর বলতে কী বুঝায়?


জীবাত্মাটি কবরেও যায় না এবং শ্মশানেও যায় না। জীবাত্মাশূন্য মানব দেহটি তথা লাশটি কবরে
যায় এবং শ্মশানে যায়। তবে হাকিকি কবরটি কী? প্রতিটি মানুষের জীবন্ত দেহটি তথা জীবাত্মার উপস্থিতি থাকা অবস্থায় দেহটিকে কবর বলা হয়। সুতরাং প্রতিটি জীবন্ত দেহ এক-একটি কবর। এই জীবন্ত দেহ-কবরে কত প্রকার যে রোগ-যাতনার শাস্তি হয় তাও কি বলতে হবে? কবরে আজাব তথা শাস্তি ভোগ করতে হবে- এই কথাটি সত্য। কিন্তু কবর কী এবং কবর বলতে কী বুঝায় তা আগে বুঝে নিতে হবে। এই জীবন্ত দেহটিই জীবাত্মার কবর। এই কবরকে হাকিকি কবর তথা আসল কবর বলা হয়। আর জীবাত্মা নাই অথচ দেহটি আছে সেই দেহটিকে লাশ বলা হয়। লাশটি মুসলমান কারণ লাশ তৌহিদে বাস করে। সুতরাং যাহা তৌহিদে বাস করে উহার শাস্তির মুখোমুখি হবার প্রশ্নই উঠে না। শাস্তি পাবে জীবাত্মা তথা নফ্স। মৃত্যু নামক ঘটনাটির আস্বাদ তথা মজা পাবে জীবাত্মা তথা নফ্স। বিচারের মুখোমুখি হতে হবে নফ্স তথা জীবাত্মাকে। মৃত্যু নামক ঘটনাটি ধ্বংস নয়, বরং আস্বাদন। এই সব রকম ঝুট-ঝামেলা হতে সম্পূর্ণ মুক্ত হলো রুহ তথা পরমাত্মা। অধম লিখক যেসব কথা লিখছি এগুলো পড়ে মোটামুটি একটা ধারণা পেতে পারেন। এই হালকা ধারণা যে বিশ্বাস বা ইমানটি আনবে উহা হালকা। কোরান-এর ভাষায় এই জাতীয় ইমানকে এলমুল ইয়াকিন বলা হয়েছে। হালকা এই জন্য বলতে হলো যে, এই ইমানটি অন্ধবিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। অন্ধবিশ্বাস সত্যের মাপকাঠি হতে পারে না। তাই রহস্যলোকের প্রত্যক্ষ দর্শনটি হলো স্থির বিশ্বাস। এই প্রত্যক্ষ দর্শনটি যার হয়ে গেছে তার ইমান আর ভেঙ্গে যাবার ভয় থাকে কোথায়? যে-বিষয়টি গোপন ছিল উহাই যখন আর গোপন না থেকে দর্শনীয় বিষয়ে পরিণত হলো তখন ইমান বা বিশ্বাস হারাবার কথাটি আত্মবিরোধী কথা হয়ে যায়। অন্ধবিশ্বাস বা ইমান বিষয়ে আল্লাহর ওলিরা বার-বার সাবধান করেছেন। বলেছেন, সাবধান! ইমানটি যেন হাসতে-হাসতে, খেলতে-খেলতে, বলতে-বলতে হারিয়ে না যায়। কারণ অন্ধ বিশ্বাস বড়ই নাজুক। ঠুনকো কাচের মতো। সামান্য আঘাতে ভেঙ্গে যেতে পারে। কিন্তু যে-বিশ্বাস বা ইমান হাতে-নাতে দেখতে পেয়েছে, ধরা দিয়েছে সেই ইমান বা বিশ্বাস হারাবার প্রশ্নই উঠে না। এই দর্শনের ইমানটি কেমন করে হবে এই প্রশ্নটির উত্তর হলো মোরাকাবা তথা ধ্যান-সাধনা। মোরাকাবার ধ্যান-সাধনার মাধ্যমে যে রহস্যলোকের প্রত্যক্ষ জ্ঞানটি অর্জিত হয় ইহাকেই কোরান-এর ভাষায় স্তরভেদে আইনুল ইয়াকিন এবং হাক্কুল ইয়াকিন বলা হয়। এই ইয়াকিন ভেঙ্গে যাবার তথা হারিয়ে যাবার আর কোনো প্রশ্নই উঠে না। এই সাধকদের বেলায় ইমান হারাবার ভয়ভীতি ও উপদেশগুলোর আর কোনো প্রয়োজন হয় না। অনুমানের বিশ্বাস ও প্রত্যক্ষ দেখার ইমান তথা হাক্কুল ইয়াকিনের মাঝে আকাশ-পাতাল ব্যবধান। হাক্কুল ইয়াকিনের মাঝে আর কোনো সন্দেহ-সংশয়, ভয়-ভীতি থাকার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এই ইমান যিনি লাভ করতে পেরেছেন তিনিই মোমিন এবং মোমিনের সঙ্গে আল্লাহ্ আছেন বলে কোরান ঘোষণা করছে। আমানুর সঙ্গে আল্লাহ্ আছেন বলে কোরান একবারও বলেনি। সুতরাং আমানু এবং মোমিনের মাঝে বিরাট পার্থক্যটি দেখতে পাই।

-মারেফতের গোপন দর্শন অনেকেরই অজানা
-ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here