সুফিবাদ কী? সুফিবাদের আসল পরিচয়টি কেমন?
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
সুফিবাদ বিষয়টি নিরেট একটি অত্যন্ত গোপনীয় বিষয়। যাহা বিশদ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা দিয়ে লিখলেও বুঝানো যায় না। খুব বেশি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ছবিতে বাঘ-সিংহ দেখার মতো বুঝানো যেতে পারে। কিন্তু বনের আসল বাঘ ও সিংহ দেখতে হলে চিড়িয়াখানায় যেতে হয়। সুফিবাদের আসল পরিচয়টি একটি মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ। যে-মানুষটি সুফিবাদের রহস্য জানবার জন্য নির্জনে বছরের পর বছর মোরাকাবা-মোশাহেদার ধ্যান-সাধনায় মগ্ন আছেন তিনিই কেবল সুফিবাদের রহস্যটি বুঝতে পারেন। মোরাকাবার ধ্যান-সাধনা ছাড়া সুফিবাদের উপর একবস্তা ভালো-ভালো কথা জানা যায় এবং অন্যকে বুঝানো যায়, কিন্তু আসল রহস্যটি জানা যায় না। মহানবি হেরাগুহায় পনেরটি বছর প্রাকটিকাল মোরাকাবার ধ্যান-সাধনাটি করে তাঁর উম্মতদেরকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। এই মোরাকাবার ধ্যান-সাধনাটি করা বড়ই কষ্টকর, বড়ই ধৈর্যের বিষয়। মনের অসীম একাগ্রতা এবং দৃঢ় প্রত্যয় না থাকলে ধ্যান-সাধনাটি করা যায় না। সুতরাং সুফিবাদ মূলত ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

আমরা বুখারি শরিফ-এর পঁচানব্বই নম্বর হাদিসটিতে দেখতে পাই যে আসহাবে সুফ্ফার একজন জলিল কদরের সাহাবা হজরত আবু হোরায়রা (রা.) প্রকাশ্যে বলে গেছেন যে, মহানবির কাছ থেকে দুই ধরনের জ্ঞান অর্জন করেছেন : একটি প্রকাশ্য এবং অপরটি গোপনীয়। উনি বলেছেন যে, প্রকাশ্য জ্ঞানটি যাহা আমি মহানবি হতে পেয়েছি, উহা প্রকাশ করে দিলাম এবং গোপনীয় জ্ঞানটি প্রকাশ করতে গেলেই কাটা যাইবে আমার এই গলা। মহানবির চাচা এবং সাহাবা ইবনে আব্বাসও (রা.) বলেছেন যে, এই গোপন জ্ঞানটি প্রকাশ্যে প্রচার করা যায় না। ইহা সিনা-ব-সিনার গোপন জ্ঞান। যিনি এই গোপন জ্ঞান তথা এলমে লাদুনি হাসিল করতে পেরেছেন তাঁর সহবতে থেকেই এই জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ইহাকেই গুরু এবং শিষ্যের জ্ঞানদান ও জ্ঞানগ্রহণ করা বুঝায়। ফারসিতে ইহাকেই পীর ও মুরিদের জ্ঞানদান ও অর্জন করার বিষয়টি বলা হয়েছে। সুফিবাদের রহস্যের জ্ঞান অর্জন করার জন্যই গুরু ধরতে হয়। গুরু রহস্যের জ্ঞান তথা এলমে লাদুনি কী করে এবং কেমন করে অর্জন করা যায় তার দিক নির্দেশনা দেবেন। তাবিজতুম্বা, ঝাড়ঁফুক, পড়াপানি ইত্যাদি আল্লাহর ওলিদের অনেক সময় দিতে দেখা যায়, কিন্তু ইহা সুফিবাদ নয়।
-মারেফতের গোপন দর্শন অনেকেরই অজানা
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
















