কেতাব ও কোরআন কি একই?
মুসলিমদের মূল ধর্মগ্রন্থ কোরান হলেও অধিকাংশ মুসলিম তাদের মূল ধর্মগ্রন্থ থেকে দূরে। তারা অনুসরণ করে ২ নাম্বার তথাকথিত হাদিস গ্রন্থসমূহ (৩০০ বছর পরে লিখিত এইসব হাদিস গ্রন্থ কেউ না মানলে সে নাকি মুসলমানি নয়! বলি জিব্রাইল এসে এসব গ্রন্থ সত্যায়িত করে গেছেন? ফাজলামোর একটা সীমা থাকা দরকার) কিন্তু পরিতাপের বিষয় তারা সেটাও পড়েন না, গবেষণা করেন না। তারা অনুসরণ করেন কিছু বক্তাদের, কিছু তথাকথিত আলেমদের। বর্তমানে জামাতে ইসলামের অনুসারীদের প্রকাশ চোখে পরার মতো তবে এই অনুসারীদের অধিকাংশই তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা আবুল আলা মওদুদি সাহেবের কোরানের তাফসীরতো দূরের কথা দুই একটা ছোট বইও পরেনি। সে যাই হোক মূল আলোচনাই যাই, আমাদের আলোচ্য বিষয় হলো কিতাব ও কোরান।
আমরা যে গ্রন্থটি আল্লাহর দেয়া আসমানি কেতাব হিসেবে পাঠ করি তাই কী কেতাব? নাকি কেতাবের অংশ? এর উত্তর আমরা কোরানেই খুজবো।
সূরা ওয়াকিয়ার ৭৭-৭৯ নং আয়াতে বলা হচ্ছে, “এ কোরান সুরক্ষিত আছে কেতাবের মধ্যে।” অর্থাৎ এই আয়াতে বর্ণিত কোরানটি কেতাব নয় বরং কেতাবের মধ্যে সুরক্ষিত আছে তথা কেতাবের মধ্য হতে এই কোরানের আগমন। এবং এটি কেতাবের একটি অংশ। আমার এই কথার প্রমাণ পাবেন সূরা নিসার ৪৪ এবং ৫১ নম্বর আয়াতে।
৭৯ নং আয়াতে বলছে, ‘এবং তা কেউ পবিত্র না হয়ে স্পর্শ করতে পারবে না।’ অথচ আমাদের হাতে থাকা কোরান যে কেউ অপবিত্র অবস্থাতেও স্পর্শতো দূরে থাক কোরান খুলে পড়ারো ক্ষমতা রাখে। আর এই জন্যই আল্লার চাইতে বেশি বুঝা মৌলবি সাহেবেরা এই আয়াতের অর্থ করে, তোমরা পবিত্র না হয়ে কোরান ছুয়ো না। তাহলে এখানে কোরান বলতে যা বুঝানো হয়েছে তা আমাদের হাতের কোরান নয়! তাহলে সেই কোরান কোন কোরান? এই আয়াত তিনটি থেকে তিনটি বিষয় পরিষ্কার-
১) কোরান এবং কেতাব এক নয়।
২) আমাদের হাতে থাকা কোরানটিও এই তিন আয়াতে বর্ণিত কোরান নয়।
৩) আত্মিক পবিত্রতা অর্জনের পর এই আয়াতে বর্ণিত কোরানের সন্ধান আমরা পাব।
তিন নম্বর পয়েন্টিতে চলে আসে সূরা বনী ইসরাইল এর ৭৮ নম্ববর আয়াতটি। যে আয়াতটি আল্লাহর চাইতে বেশি বুঝা আলেমগং ওয়াক্তিয়া সালাতের দলিল হিসেবে অনেকসময় ব্যবহার করে থাকে।
এখানে বলে রাখা ভালো সূরা হিজরের ৯ নম্বর আয়াত যা সাধারণত ব্যবহৃত হয় কোরান অপরিবর্তণীয় অবস্থায় আছে বলে। কিন্তু সেখানে মূল আরবিতে কোরান শব্দটি নেই আছে জিকির শব্দ। এবং আমাদের হাতে থাকা কোরানের পরিবর্তন, সংযোজন বিয়োজন হয়েছে কিনা তা জানার জন্য, সদরউদ্দীন আহমেদ চীশতির মাওলার অভিষেক ও মতভেদের কারণ, মুফাসসিল ইসলাম এর লেকচার, এবং কোরানের স্ক্রিপ্ট নিয়ে গবেষণামূলক গ্রন্থসমূহ পাঠ করুন।
তারপর সূরা বনী ইসরাইল এর ৭৮ নং আয়াতটি যা তথাকথিত আলেমরা ওয়াক্তিয়া সালাতের কথা প্রমাণ করার জন্য ব্যবহার করেন। সেখানে সালাত শব্দটিতো নাই বরং রয়েছে কোরানুল ফাজরি তথা ভোরের কোরান। এই ভোরের কোরানটি আবার কী?
এবার আসি,সূরা বাকারার প্রথম দুই আয়াত
- আলিফ লাম মীম
- ঐটাই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের জন্য হেদায়েত।
উক্ত আয়াতে মূল আরবিতে বলা হয়েছে জালিকাল অর্থাৎ ঐটাই অর্থাৎ আলিফ লাম মীমটাই কেতাব। এখানে লক্ষনীয় বিষয়টি হচ্ছে এখানে কোরান শব্দটি নেই। যদি এই আয়াতটিতে হাজাল কেতাব থাকতো তবে অনুবাদ হতো এইটাই কেতাব তথা আপনার হাতে থাকা কাগজের কোরানটি। কিন্তু তা না বলে আলিফ লাম মিমকেই কেতাব বলা হলো। এখন এই আলিফ লাম মীমের সন্ধান কী আমাদের করা উচিত? নাকি আল্লায় জানে বলে শেষ করা উচিত?
– আবু হুরাইরা
সুফি লেখক ও গবেষক
















