Sufi meditation বা ধ্যান সাধনা
(১ম কিস্তি)
নিজের ভেতর যে খান্নাসরূপী শয়তানটি আছে, উহাকে কেমন করে তাড়াতে হবে? কী পথ ও মত অবলম্বন করলে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়? এই খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেবার প্রেসক্রিপশন তথা ব্যবস্থাপত্রটি একমাত্র সুফিবাদই দিয়ে গেছে। সুতরাং সুফিবাদই হল ইসলামের মূল বিষয়। ইসলামের আগমন হজরত আদম (আ.) হতে এবং সকল জাতি ও সম্প্রদায়ের মাঝে আল্লাহ্ পাক নবী ও রসুল প্রেরণ করেছেন। আপনার ভিতরে, পরীক্ষা করার জন্য উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেওয়া, খান্নাসরূপী শয়তানটিকে কেমন করে, কী উপায় অবলম্বন করলে তাড়িয়ে দেওয়া যায় তারই ব্যবস্থাপত্রটি যুগে যুগে, কালে কালে, সর্বসময়ে তাঁরা দিয়ে গেছেন।

আজ হতে অনুমানিক সাড়ে পাঁচ হাজার বছর আগে যমদগ্নি মুনি যখন ধ্যানসাধনা করার মধ্য দিয়ে সিদ্ধি লাভ করেন, তথা আপনার ভিতরের খান্নাসরূপী শয়তানকে তাড়িয়ে দিতে পারলেন, তখনই যমদগ্নি মুনি বলে ফেললেন, ‘সোহহম সোহমী’ তথা তিনিই আমি, আমিই তিনি। সুতরাং পীর তথা গুরু ধরতেই হবে। এই পীর তথা গুরুর মাধ্যমে শিষ্যকে তথা মুরিদকে শিখে নিতে হবে, জেনে নিতে হবে, কেমন করে কীভাবে কী উপায়ে নিজের ভিতরের খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়। আরবি ভাষায় যাকে আমরা খান্নাসরূপী শয়তান বলি উহাকেই বৈদিক যুগের মুনি ঋষিরা ‘মায়া’ বলে থাকেন। বৈদিক যুগের মুনি-ঋষিরা এই মায়ার বন্ধনকেই ছিন্ন করতে উপদেশ দিয়ে গেছেন।
বৈদিক যুগের মুনি-ঋষিরা বলেছেন যে, কর্ম করা বন্ধন নয়, বরং কর্মের মাঝে যখন মায়া এসে উপস্থিত হয় তখনই কর্ম বন্ধন হয়ে যায়। মায়া কর্মকে কলুষিত করে। কলুষিত কর্ম বন্ধন। মায়া বিহনে কর্ম বন্ধন নয়, বরং এবাদত। হাঁস জলের পুকুরে সারাদিন অবস্থান করে, কিন্তু সাঁঝের বেলায় পুকুর হতে যখন উঠে আসে তখন হাঁসের শরীরে আর জল থাকে না। কর্মের পুকুরে অবস্থান করো, কিন্তু মায়ার জল যেন গায়ে না লাগে। এ বড় কঠিন পরীক্ষা। এ বড় ভয়ংকর সাধনা। এ বড় প্রতিজ্ঞা নিয়ে সাধনরাজ্যে অগ্রসর হওয়া। মায়ার বন্ধন হতে মুক্তি পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়, কোনো মামুলি বিষয় নয়, কোনো ছেলের হাতের মোয়া খাওয়ার মত নয়। তাই অতি অল্প সংখ্যক মানুষই কামিয়াব হতে পারে, তথা সিদ্ধিলাভ করতে পারে, তথা কামালিয়াত হাসিল করতে পারে। তাই পবিত্র কোরান বলছে যে, যাকে হেকমতের জ্ঞানদান করা হয় তাকে যথেষ্ট রহমত তথা কল্যাণ দান করা হয়। এই রকম পীর তথা গুরু ধরেই মোরাকাবা-মোশাহেদার পথেই এগিয়ে যেতে হয়। পীর তথা গুরুর আচার-আচরণের বিষয়টি এখানে মুখ্য নয়, বরং মুখ্য বিষয়টি হল কেমন করে নিজের ভেতর হতে খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেওয়া যায়। যে পীর বা গুরু মোরাকাবা-মোশাহেদা তথা ধ্যান সাধনার কথাগুলো মুরিদ তথা শিষ্যদের শিখিয়ে দেয় না, অথবা শেখাবার পদ্ধতি নিজেই জানে না, সে কেমন করে পীর তথা গুরু হয়? অনুমানের গুলমারা বিদ্যা এবং মহাপুরুষদের বাণীগুলোকে অনুমানের ভিত্তিতে প্রচার করে। মুরিদদেরকে ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। এই জাতীয় পীর ও গুরুদের আমরা কখনোই ব্যবসা করছে বলব না, কিন্তু এদের কাছে আসল পথটি পাওয়া বড়ই কষ্টকর। কারণ সুফিবাদ বাকিতে পাবার কথাতে বিশ্বাস করে না; তথা মরে গেলে পাবে এ রকম উদ্ভট আজগুবি কথায় সুফিবাদ বিশ্বাস করে না। মহানবী হেরাগুহায় যে ধ্যানসাধনাটি করেছেন উহাতে নবুয়ত নগদই পেয়েছেন, বাকিতে নয়; পবিত্র কোরান নগদই পেয়েছেন, বাকিতে নয়; জিবরিল আমিনকে নগদই দেখেছেন, বাকিতে নয়। সুতরাং সুফিবাদ নগদ পাবার একটি মূল্যবান দর্শন। সুফিবাদ বলে যে, বাকির নাম ফাঁকি। সুফিবাদ বলে যে, দুনিয়াতে যে অন্ধ আখেরাতেও সে অন্ধ থাকবে। হজরত বাবা বু আলী শাহ্ কালান্দার সরাসরি বলেছেন যে, আসো, আমার কাছে মুরিদ হও, আমার কথা মত মোরাকারা-মোশাহেদা কর মাত্র একশত বিশ দিন, তারপর দেখ সত্যের রহস্যের দর্শন পাও কি না। যদি না পাও তাহলে দুই হাতে দুইটি পাথর নিয়ে আমার (কালান্দার) মাজারে ছুড়ে মেরে দিয়ে বলে দিও, কালান্দার মিথ্যুক। এই একশত বিশ দিনের ধ্যানসাধনায় তুমি কামেল হবে না সত্যি, কিন্তু কামালিয়াতের কিছুটা রহস্য অবশ্যই বুঝতে পারবে। ধোঁয়া যেমন আগুনের কথা মনে করিয়ে দেয়, সে রকম একটানা একশত বিশ দিন মোরাকাবায় অবশ্যই রহস্যলোকের কিছুটা পরিচয় বুঝতে পারবে। বু আলী শাহ কালান্দার যদিও সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে মারেন নি, কিন্তু আশার আলোর কথাটি জানিয়ে দিলেন। এ রকম খাড়াধাড়া কথা খুব কম অলী বলে থাকেন। পবিত্র কোরানও একশত বিশটি দিন আপন দেহের মাঝে ভ্রমণ করার উপদেশ দিয়েছেন।
হজরত মোজাদ্দেদে আল ফেসানী সিরহিন্দ বলেছেন ‘তোমার পীরই হল তোমার প্রথম মাবুদ।’ ‘পীরে তাস্ত আউয়াল মাবুদ তাস্ত’ (মাতলাউল উলুম কিতাবের ছিয়াশি পৃষ্ঠা)। বাক্যটি সাধারণ দৃষ্টিতে অনেক প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে। কিন্তু এখানে লক্ষ করার বিষয়টি হল যে, উনি পীরকে প্রথম মাবুদ বলেছেন, কিন্তু আখের তথা শেষ মাবুদ বলেন নি। কারণ পীর নাসুত, মালাকুত এবং জাবরুত মোকাম পর্যন্তই থাকেন। সুতরাং পীর, সুফিবাদের হিসাব অনুযায়ী প্রথম মাবুদ। তাহলে শেষ মাবুদ কে? শেষ তথা আখের মাবুদ আপন রব তথা আল্লাহ্। যখন সাধকের আপন নফস হতে খান্নাসরূপী শয়তান বাহির হয়ে যায় তখনই আপন রব তথা আল্লাহ্ রূহ রূপে উদ্ভাসিত হয়ে উঠেন। তখনই সাধকেরা ‘আমিই সত্য’ বলে ঘোষণা করেন।
মারেফতের বানী
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

















দে ঈমান আর স্বরেসরি ডক্টর জাহাঙ্গীর আলমের ধ্যানের বই পাওয়া জাবে
জি বাবা জাহাঙ্গীরের বই পাওয়া যাবে। মোঃ 01717636353
ভাই e-Book কিভাবে পাওয়া যাবে?