হোম পেজ বানী তাসাউফ ও আত্মশুদ্ধি নামাজ বেহেশতের চাবি, আবার নামাজেই ওয়াইল নামক দোজখ! বাবা জাহাঙ্গীর | Baba...

নামাজ বেহেশতের চাবি, আবার নামাজেই ওয়াইল নামক দোজখ! বাবা জাহাঙ্গীর | Baba Jahangir Book PDF

167
0
নামাজ বেহেশতের চাবি, আবার নামাজেই ওয়াইল নামক দোজখ!
Baba Jahangir BD

নামাজ বেহেশতের চাবি, আবার নামাজেই ওয়াইল নামক দোজখ!


ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

এবার আমরা সেই বিখ্যাত হাদিসটির বিষয়ে কিছু আলোচনা করতে চাই। আমি বিশ্বাস করতে চাই যে, মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই কতিপয় শ্রদ্ধেয় আলেম-উলামা ‘নামাজ বেহেস্তের চাবি’ বলে উল্লেখ করেন। হাদিসটির একটি অংশ তুলে ধরেন এবং অপর অংশটি এড়িয়ে যান। অথচ আকারে হাদিসটি ছোট। এখন আমরা হাদিসটি পুরোপুরি তুলে ধরছি। প্রথমে আরবি ভাষাটি বাংলা অক্ষরে তুলে ধরলাম, ‘আন জাবেরিন কালা কালা রসুলুল্লাহ (দ.), “মেফতাহুল জান্নাতে আস-সালাতু ওয়া মেফতাহু সালাতিত তহুর।” হজরত জাবের (রা) বলেছেন যে, রসুলুল্লাহ বলেছেন, “জান্নাতের চাবিটি হলো নামাজ এবং নামাজের চাবি হলো পবিত্রতা।” এখন নামাজের চাবিটি যে পবিত্রতা এই কথাটি উল্লেখ করা প্রয়োজন। কারণ পাঠক বুঝতে পারবেন যে, সেই নামাজই জান্নাতের চাবি হতে পারে, যে-নামাজের পবিত্রতা আছে। নামাজের পবিত্রতা শব্দটি আছে বলেই লোক দেখানো নামাজের নামাজিকে ওয়াইল নামক জাহান্নামে ফেলে দেওয়া হবে, এই কথাটি কোরান-এ বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো, নামাজের পবিত্রতা বলতে কী বুঝায়? দিলের পবিত্রতাই আসল এবং একমাত্র পবিত্রতা। শরীরের উপর শতচ্ছিন্ন শত তালি মারা পোশাকটি পরেও নামাজ পড়া যায়। আল্লাহ্ পাক শতচ্ছিন্ন শত তালিমারা পোশাকটি দেখেন না বরং হৃদয়ের পবিত্রতা তখনই হয় যখন হৃদয়ের অভ্যন্তরের খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমি এবং খান্নাসরূপী শয়তান উভয়ে একত্রে বসবাস করা পর্যন্ত হৃদয়ে পবিত্রতা আসে না। তাই কোরান-এর সুরা মোমিনের ষাট নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলছেন, “তুমি একা ডাকো, ডাকের জবাব সঙ্গে-সঙ্গে পাবে।” আমি ও খান্নাসরূপী শয়তান উভয়ে একত্রে হৃদয়ে বাস করলে দুইজন হয়ে যায়। দুইজনের আরবি শব্দটি হলো ‘উদউনা’। খান্নাসরূপী-শয়তানকে তাড়িয়ে দিতে পারলেই একা হওয়া যায়। একা হয়ে যাবার আরবি শব্দটি হলো ‘উদউনি’। সুতরাং বলা হয়েছে, ‘ফা কালা রাব্বুকুম উদউনি আস্তা জেবলাকুম’, অর্থাৎ সুতরাং তোমাদের রব বললেন, ‘একা ডাকো, ডাকের জবাব সঙ্গে সঙ্গে পাবে।’ একা না হতে পারলে তথা ‘উদউনি’ না হলে হাজার ডাকেও জবাবটি পাই না। সুতরাং আমার ভেতর যে পর্যন্ত খান্নাসরূপী শয়তান অবস্থান করে সেই পর্যন্ত আমার ডাক, আমার নামাজ, আমার এবাদত-বন্দেগির পবিত্রতা থাকে না। তাই নামাজের পবিত্রতাটি হলো, আমার ভেতরের খান্নাসরূপী শয়তানটিকে তাড়িয়ে দেওয়া। অন্যথায় মনগড়া কথা বলে, মনগড়া ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে, মনগড়া তৃপ্তি পাওয়া যায়, কিন্তু আসল বিষয়টি হতে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সত্য অপ্রিয় হলেও সত্য এবং সত্যটিকে মনগড়া ব্যাখ্যা দিয়ে উদ্ধার করা যায় না। নামাজ যে-রকম বেহেশতের চাবি ঠিক সে-রকম ভাবেই নামাজের চাবিটি হলো পবিত্রতা তথা তাহারাত। নামাজটিতে পবিত্রতা তথা তাহারাতের শর্তটি জুড়ে দেওয়া হয়েছে।

-মারেফতের গোপন দর্শন অনেকেরই অজানা
-ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here