আধুনিক বস্তুবিজ্ঞানের কথাটি হল যে, জ্ঞান-বুদ্ধি মানুষের মাথায় থাকে। এজন্যই বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের মাথার মগজটি সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। কিন্তু অবাক হবার কথাটি হল যে, সূফীবাদের জ্ঞান মাথায় না থেকে সিনায় থাকে। যাকে এলমে কলব, এলমে লাদুনি অথবা সিনা-বো-সিনার এলেম বলা হয়। আমরা জানতে পারি যে, রূহুল আমিন হেরাগুহায় এসে মহানবীর মাথা মোবারকের সঙ্গে চাপ না দিয়ে সিনায় চাপ দিয়েছিলেন। যেহেতু এলমে লাদুনি সিনার জ্ঞান তাই মহানবীর সিনায় চাপ দিয়েছিলেন। এলমে লাদুনি মাথায় থাকে না, থাকে সিনায়। সুতরাং মাথার জ্ঞান আর সিনার জ্ঞানের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তাই মাথার জ্ঞানীরা সিনার জ্ঞানীদের আগা-মাথা কিছুই বুঝে উঠতে পারে না। কেবলই আত্মবিরোধের ঝুঁড়ি আবিষ্কার করে আর মুচকি হাসে আর মনে মনে বলে এটা আবার কেমন জ্ঞান? সিনার জ্ঞানের উপর যে অনেক রকম আক্রমণ হবে এবং এতে অনেকেই বিভ্রান্ত হবে এটা পূর্বেই কোরান ঘোষণা করেছে। সেই যুগে অঙ্কশাস্ত্রের বিরাট পণ্ডিত ছিল আবু জাহেল। তাই মহানবীর সিনার জ্ঞানটিকে কিছুতেই মেনে নিতে পারলো না। না পারার কারণটি হল, আবু জাহেল অঙ্কের হিসাবে মহানবীকে মিলাতে পারে নি। অঙ্কের হিসাবটি যে মাথার আর মহানবীর কালামটি যে সিনায় অবস্থান করে। তাই তো মাথা ও সিনার মাঝে বিরাট পার্থক্য। মোজেজার পর মোজেজা দেখেও আবু জাহেলের অঙ্কের হিসাবে তা যাদু মনে হয়েছিল। তাই আবু জাহেল বলেছিল যে, সবার যাদু জমিনে চলে আর তোমার যাদু আসমানেও চলে। মাথার জ্ঞান সিনায় ঢোকানো যায় না। মাথার জ্ঞানী যদি একজন নিরক্ষর মানুষের সিনায় শতবার চাপও দেয় তো জ্ঞান ঢোকা তো দূরে থাক বরং অসুস্থ হবার সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে।
মহানবীর জ্ঞান সিনার জ্ঞান। এই সিনার জ্ঞান লাভ করেছেন নির্জন হেরাগুহায়। দুই একদিনের ধ্যানসাধনায় নয় বরং পনেরোটি বছর (একটানা নয়) একদম নির্জন স্থানে একাকী ধ্যানসাধনার মধ্য দিয়ে।
চুটকি মেরে উড়িয়ে দেয় ওহাবীরা এই এলমে কলব। যে ওহাবীরা নফস আর রূহের পার্থক্যটি করতে পারে না তাদের কাছে হাল্কা শাস্ত্রকথা আর হাল্কা সাজ-সজ্জার বাহারি রূপটি দেখে ধোকা খায়। মুফতি, মাওলানা, মোফাস্সেরে কোরান, শায়খুল হাদীস হওয়াটা এক বিষয় আর এলমে কলব হাসিল করাটা সম্পূর্ণ অন্য বিষয়।
একদম সাদামাটা ভাষায় বিষয়টি তুলে ধরলাম। বিস্তারিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন মনে করি নি এজন্য যে, যে বুঝবার সে এই সামান্য কথাতেই বুঝতে পারবে। আর যে বুঝবে না বা বুঝতে চাইবে না তাকে এনসাইক্লোপেডিয়া বানিয়েও বুঝানো যাবে না। কারণ এখানেও সেই পুরনো তকদিরের কথাটি এসে পড়ে।
-বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
















