This Content Is Only For Subscribers
কীভাবে কামেল পীর হওয়া যাবে?
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
কতবার বলেছি, ‘কথার মধ্যে খোদা নাই, আর খোদার মধ্যে কথা নাই।’ সাবধান করে দিয়েছি, সতর্ক হবার বারবার অনুরোধ করেছি, অপরিসীম গুরুত্ব প্রদান করেছি, মাত্র একটি উপদেশের জন্য। যে-উপদেশটি খুব কম মানুষই অনুসরণ করে, অনুকরণ করে এবং মাথা পেতে মেনে নেয়, আর সেই উপদেশটি হলো আপন পীরের ধ্যানে ডুবে যাওয়া।
সবচেয়ে কঠিন, সবচেয়ে শক্ত কাজটিই হলো আপন পীরের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়া। কেমন করে ডুবিয়ে দেব? কী করলে ডুবে যাব? জিকিরের বিভিন্নতা দিয়ে নয়। যে বিষয়টি দিয়ে তুমি আল্লাহ্র ওলি হতে পারবে, সেই বিষয়টি হলো আপন পীরের ধ্যান করা। এই পীরের ধ্যান না থাকলে তুমি কিছুই পাবে না। তোমার ভাগ্যে জুটবে কাঁচকলা, না হয় সাগর কলা।
মানুষ বকবক করতে পছন্দ করে, মানুষ নাচতে পারে, গান গাইতে পারে, চিৎকার দিতে পারে, কাঁদতে পারে, মাতম করতে পারে, শরীরে শিকল পরতে পারে, কিন্তু পীরের ধ্যান করা বড়ই কষ্টকর। সেই ধ্যানকেই বলে তাসাব্বুরে শায়েখ, সেই ধ্যানকেই বলে নিরিখ-বর্জাখ, সেই ধ্যানকেই বলে একরাক-ব্যাহেমে গুমা, সেই ধ্যানকেই বলে কুমুসুবু, সেই ধ্যানকেই বলে মাদহোসে সাগর।
আমার এই হাত দুটো আমার না, আমার গুরুর। পা দুটো আমার না, আমার গুরুর। এইভাবে চোখ-কান-নাক-মুখ আমার না, আমার গুরুর। আমি হাঁটি না, আমার গুরু হাঁটে। আমি হাত দিয়ে কাজ করি না, আমার গুরু করে। আমি চোখ দিয়ে দেখি না, আমার গুরু দেখে। আমি কান দিয়ে শুনি না, আমার গুরু শোনে। আমি খাই না, আমার গুরু খায়। এইটাই পীরের ধ্যান। এই ধ্যান বিহনে ফকির হওয়া অসম্ভব।
মানুষের মনের গতি আলোর গতির চেয়েও ভয়ঙ্কর। আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। কিন্তু মনের গতি সেই আলোর গতির চাইতেও অনেক অনেক গতিশীল। এই গতিকে থামিয়ে দিয়ে একের মধ্যে নিয়ে আসতে পারলেই তুমি পীরে কামেল হয়ে যাবে।
ফকিরির গোপন কথা
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী
















