শাহ্ সুফি বাবা জালাল নূরী সম্পর্কে বাবা জাহাঙ্গীর

মাওলাউল আলা বাবা জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর নয়নের মণি নাতি বাবা শাহ্ জালাল নূরী অফিআনহুর নামে। যিঁনি অধম লিখকের পীর ও মুরশেদ কেবলায়ে কাবা। যিঁনি গোপনীয়তার প্রশ্নে পাথরের মত শক্ত এবং মমতায় মোমের মত বিগলিত। শরিয়তের লেবাসের ভেতর এত বড় মারেফতের সূর্য লুকিয়ে রাখার নীরব সাক্ষী যিঁনি।

বড় পীর সাহেবের মত সংসার কাজে লিপ্ত অথচ ভেতরে ফকির যিঁনি। প্রথম দর্শনে বাবাজানকে ঘোর সংসারী বলে প্রায় লোকই ভুল করতে পারে, কিন্তু সাধনার কত উঁচুস্তরে অবস্থান করছেন সেটা ধরতে পারলে বোকা বনে যেতে হয়। বাবা শেখ ফরিদ তাঁর দিওয়ানে বলেছেন, ‘নূরে মান্ দার তাঙ্গেনামি তান্ মাজো- আফ্তামাব্ জাররায়ে রওশন না আম’ অর্থাৎ ‘আমার দেহের মাঝে নূর খুঁজতে যেও না। কারণ, যে নূরের সূর্য ডুবে আছে তা ক্ষীণ আলোতে বুঝতেই পারবে না।’ বাবা শেখ ফরিদের বাণীর প্রতিমূর্তি যিঁনি।

খাজা গরীব নেওয়াজ মোনাজাতের সময় অনেক নাম না জানা অলীদের নাম ধরে সালাম দিতেন এবং ভক্তবৃন্দ এই অলীদের নাম শোনেননি বললে খাজা বাবা বলতেন, এই সকল অলীরা আমার চেয়েও বড় কিন্তু তারা বনেই ফুটেছিলেন এবং বনেই ঝরে গেছেন- সেই রকম বনের ফোটা ফুল হয়ে আছেন যিঁনি। খাজা উসমান হারুনী বলেছেন, ‘মারেফত উধারই নিস্ত জিধার ভালাই ভি নিস্ত বুড়াই ভি নিস্ত।’ অর্থাৎ ‘মারেফতের দেশ সেটাই যেখানে ভাল এবং মন্দের কোন স্থান বা শর্ত নেই।’ ভাল এবং মন্দের ঊর্ধ্ব দেশে অবস্থান করছেন যিঁনি।

বাবাজান কেবলা যদি ইউরোপ এবং আমেরিকাতে তার সাধন শিক্ষা দিতে পারতেন তবে দশ আনি মানুষ অন্ধের মত ঝাঁপিয়ে পড়তেন কারণ এই গুপ্ত সাধন বিদ্যা কয়জনের জানা আছে আমি বলতে পারবো না। অথচ তিনি বোবা, যেমন বোবা এই প্রকৃতি। বাবাজান বলেন, ‘আল্লাহর মধ্যে কথা নেই এবং কথার মধ্যে আল্লাহ নেই।’

(উৎসর্গ)
মারেফতের গোপন কথা
ডা. বাবা জাহাঙ্গীর বা-ঈমান আল সুরেশ্বরী

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here