হোম পেজ মারেফত পরমাত্মাকে জাগিয়ে তোলাই হলো অবতারবাদ

পরমাত্মাকে জাগিয়ে তোলাই হলো অবতারবাদ

মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা

175
0

উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুসারে অবতার শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে এসেছে যার অর্থ দাড়ায় অবতরণ। অর্থাৎ অবতার বলতে সৃষ্টিকর্তা বা স্বয়ং ঈশ্বর দেহ ধারনপূর্বক পৃথিবীতে অবতীর্ণ হওয়াকে বুঝায়। আমরা ডক্টর জাকির নায়েক সাহেবের অনেক বক্তব্যে ‘কল্কি অবতার’ শব্দ জোড়ার কথা শুনতে পারি এবং কল্কি অবতার বলতে উনি মহানবী মোহাম্মদ (আ.) কে বুঝিয়েছেন। এই অবতার বা অবতারবাদ সম্পর্কে বাবা জাহাঙ্গীর একটি পরিচ্ছেদে বলছেন পরমাত্মাকে বা রুহকে জাগিয়ে তোলাই হলো ‘অবতারবাদ’।

এ প্রসঙ্গে উনি তাঁর লিখিত ‘মারেফতের গোপনেরও গোপন কথা’ বইয়ের ৩১নং অধ্যায়ে লিখছেন— আল্লাহর নৈকট্যলাভের পথিক আত্মহারা হয়ে যায়। তখন সেই পথিকের কথা বলার জিহ্বা ও কণ্ঠ আল্লাহর হয়ে যায়। সেই পথিকের চোখ, কান আল্লাহর হয়ে যায়। সেই পথিকের হাত, পা, দেহ এবং দেহের সবকিছু আল্লাহর হয়ে যায়। এই মূল্যবান কথাগুলো বুঝবার জন্য অবতার পাঠানো হয়। দেহ আর জীবাত্মায় যে পরমাত্মা তথা রুহ লুকিয়ে থাকে তাকে পরিপূর্ণরূপে জাগিয়ে তোলা হয়। এই জাগিয়ে তোলার নামই অবতারবাদ। বীজ অতি ছোট। কাঁঠালের বীজটি ছোট কিন্তু জাগিয়ে তোলা কাঁঠাল গাছটি এই ছোট বীজটির মধ্যে সবরকম গুণ নিয়েই বিরাজ করেছিল। জেগে উঠার দরুন বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে, এত ছোট বীজে এত বড় গাছটি কেমন করে লুকিয়ে ছিল। কেমন করে এত শক্তি এই সামান্য বীজের মাঝে লুকিয়ে থাকতে পারে। অণুর মাঝেই শক্তি লুকিয়ে থাকে।

জাগিয়ে তোলার কৌশল জানতে পারলে সেই শক্তিটি রূপ ধারণ করে। মানুষের মাঝে রুহ নামক অণু লুকিয়ে আছে। এই রুহ নামক অণুকে জাগিয়ে তোলার কৌশল জানতে পারলেই আল্লাহর ওলিতে পরিণত হওয়া যায়। এ রকম কৌশল যার জানা নাই তিনি কেমন করে আল্লাহর ওলি হতে পারেন? যিনি কৌশল জানেন তিনিই তো কৌশল শিক্ষা দিতে পারেন। সুতরাং কৌশলদাতাকে খুঁজতে হবে। কৌশলদাতারা খিজিরের মতো, বরা ফকিরের মতো লুকিয়ে থাকেন। আইনের দৃষ্টিতে কৌশলদাতা বলে মনে হয় না। কারণ কৌশলদাতা ওয়ায়েস করনি, সারমাস্তরা ধরা দিতে চান না। তাই তাদেরকে ধরার চেষ্টা করে যেতে হবে। অবশ্য তকদির বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তকদিরের এরকম আচরণটি নিষ্ঠুর-নির্মম বলে মনে হয়। বিদ্রোহ করতে চায়। অথচ শাস্ত্রজ্ঞরা যাকে কৌশলদাতা বলে জানায় তাদের কাছে গিয়ে মানুষ কতগুলো শাস্ত্রকথার বস্তা উপহার পায়।

এই শাস্ত্রকথাগুলো তো হাজার টাকার বই কিনে পড়েও জানা যায়। মাসিক বেতনে মাস কয়েক একজন ভালো শাস্ত্রজ্ঞকে নিয়োগ করে শাস্ত্রের অনেক প্রকার কথা জানা যায়। আমি তো শাস্ত্রকথা জানার জন্য গুরু ধরিনি? তাহলে আর কৌশলদাতা গুরু পেলাম কোথায়? গুরু যদি এলমে লাদুনির শিক্ষা তথা সিনার জ্ঞান দান না করতে পারেন তা হলে জীবনটাই বৃথা। তাই শাস্ত্রজ্ঞদের কাছে আসল বিষয়টি পায় না। যে-বিষয়টি জানবার জন্য এসেছিল সেটা ভুলিয়ে দিয়ে কতগুলো সুন্দর সুন্দর ভোগের উপহার পাবার আশা দেয়। তাও আবার এখন পাওয়া যাবে না। নগদ নয়, বাকি। মরে গেলে পাবে। কেউ বুঝতে পারে বাকির নাম ফাঁকি। আবার কেউ বাকিতে পাবার আশায় কেনা-বেচা শুরু করে দেয়। পরে বোঝে বাকির নাম ফাঁকি আর সেই বোঝাটা তার তকদির। এই তকদির ভেঙে ফেলার উপায় আছে কি-না আমার জানা নাই।

তবে আল্লামা ইকবাল বলেছেন যে, পূর্ণ অবয়বটি তাঁর অধীন হয়ে যায়। সাহাবা আবু সাঈদ খুদরির বাবা হজরত মালেক ইবনে সিনান যখন ওহুদের যুদ্ধে মহানবির আঘাত পাওয়া পবিত্র দেহ মোবারক হতে রক্ত মোবারক বের হচ্ছিল, তখন মুখ লাগিয়ে চুষে খেয়ে ফেললেন। এই দৃশ্য দেখে মহানবি বললেন, ‘আমার রক্ত যার রক্তের সাথে মিশেছে তাকে জাহান্নাম স্পর্শ করবে না।’ এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত লেখা যায় এবং অনেক গোপন রহস্যপূর্ণ কথা প্রকাশ হয়ে যায়, তাই না লিখাই ভালো। এই রহস্যপূর্ণ কথাগুলো বুঝে নিতে হয়। তবে অনেকে বোঝে, আবার অনেকেই বোঝে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here